রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

ঠাকুরগাঁওয়ের অনির্দিষ্টকালের জন্য হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ

মেঘনার আলো ২৪ ডেস্ক / ৩৫ বার পঠিত
আপডেট : বুধবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২২, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

ঠাকুরগাঁওয়ের সব হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ ঘোষণা করেছে হোটেল মালিক ও শ্রমিক সমিতি। জেলার বেকারিগুলোতে শ্রমিক না থাকার শঙ্কায় বেকারিও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকরা।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাতে জেলার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বেকারি শ্রমিক সমিতির সঙ্গে হোটেল মালিক সমিতি একযোগে এ ঘোষণা দেয়।

জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর অধীন ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ পরিচালনা করেন ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিত্যানন্দ সরকার। ওই আইনের তফসিলে বর্ণিত ৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় শহরের চৌরাস্তার হোটেল গাওসিয়া ও হোটেল রোজের ম্যানেজারকে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’টি হোটেলে তিন লাখ করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় রোজ হোটেলের ম্যানেজার রুবেল হোসেন ও গাওসিয়া হোটেলের ম্যানেজারকে আটক করা হয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দুই হোটেলের অর্ধশত হোটেল শ্রমিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ও চৌরাস্তা ট্রাফিক মোড়ে ইফতার ফেলে প্রতিবাদ শুরু করেন। এসময় শ্রমিক হেনস্থার প্রতিবাদ জানিয়ে আটক শ্রমিকের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করেন দুই হোটেলের শ্রমিকরা।

রাতে সেই দুই হোটেলের শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জেলার সব হোটেল শ্রমিক কর্মবিরতির ঘোষণা দেন। ঠাকুরগাঁও জেলা হোটেল ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জয়নাল আবেদিন বলেন, আমরা গরিব হোটেল  শ্রমিক। দিন রোজগার করি, দিন খাই। আমাদের ওপর জেল জুলুম কেন? আমাদের শ্রমিকদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে হোটেলে কাজে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত আমরা আর কাজে যাব না। কোনো হোটেলে কাজ করব না। না খায়ে মরে যাব, তবুও কাজে যাব না।

এদিকে অতিরিক্ত জরিমানা ও হেনস্থার প্রতিবাদে হোটেল শ্রমিকদের সিদ্ধান্তে একাত্মতা জানিয়ে জরিমানা বাতিল না করা পর্যন্ত হোটেল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি অতুল কুমার পাল।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইনে তুচ্ছ ভুলের কারণে হোটেল রোজ ও গাওসিয়াকে তিন লাখ করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেন চিফ জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম। এসময় রোজ হোটেলের ম্যানেজার ও গাওসিয়ার ম্যানেজারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছর করে সাজা দেন। এ কারণে কর্মবিরতি দিয়েছেন শ্রমিকরা। তারা হোটেলে না এলে হোটেল খোলা রাখা, বন্ধ রাখা সমান কথা৷ আমরা তাদের সিদ্ধান্তে একাত্মতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত জরিমানা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরাও হোটেল না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিত্যানন্দ সরকার জানান, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর