রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ফরিদগঞ্জ সুবিদপুর পলাশ এন্ড ব্রাদার্স ব্রিকস:শিশুশ্রম অবাধে!

মেঘনার আলো ২৪ ডেস্ক / ৪১ বার পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১০:৫০ অপরাহ্ণ

 

মামুন হোসাইনঃ

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার মুন্সিরহাটে মেসার্স মুন্সিরহাট ব্রিকস ও সুবিদপুর মেসার্স পলাশ এন্ড ব্রাদার্সসহ বেশ কয়েকটি ইটভাটা চলছে আইন অমান্য করে। ইটভাটা আইন ২০১৩ না মেনে ইটভাটা চলছে। ইটের সঠিক ওজন ও মাপ কোনটাই নেই। যেমন ভাবে মানুষ ঠকছে তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বসত বাড়ির একেবারে কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপন হওয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ। এরমধ্যে আবার সরকারি অনুমতি ও পরিবেশের ছাড়পত্র নেই উপজেলার মুন্সিরহাটে অবস্থিত মেসার্স মুন্সিরহাট ব্রিকসে ও সুবিদপুর মেসার্স পলাশ এন্ড ব্রাদার্স। মেসার্স পলাশ এন্ড ব্রাদার্স এর ম্যানেজার বলেন আমাদের কোন অনুমতি লাগে না,আমরা নিজেদের ক্ষমতা বলে চালাই। মুন্সিরহাট ব্রিকস এ পরিবেশ ছাত্রপত্র ও সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া কিভাবে ইটভাটা চলছে? এই প্রশ্নের জবাবে মেসার্স মুন্সিরহাট ব্রিকস দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জুয়েল হোসেন বলেন, আসলে আমাদের এই ইটভাটার কোন কাগজপত্র নেই। পরিবেশ ছাড়পত্র ও সরকারি অনুমতিপত্রের জন্য আবেদন করলেও এখনো পাই নি। এ ব্যাপারে মালিক আব্দুল হান্নানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আব্দুল হান্নানের ছেলে এমরান হোসেন জানান আমরা অনুমতির জন্য চেষ্টা করতেছি।সরেজমিনে মেসার্স মুন্সিরহাট ব্রিকস ও সুবিদপুর পলাশ এন্ড ব্রাদার্স ব্রিকসে গিয়ে দেখা গেছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইটের মাপ ১০˟৫˟৩ ইঞ্চি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে মাপ অনেকটাই কম। যার ফলে মানুষ এই ইটভাটা থেকে ইট কিনে প্রতিনিয়তই ধোকা খাচ্ছে। কয়টি কোয়ালিটির ইট তৈরি করা হয় এখানে? এই প্রশ্নের সঠিক জবাবও দিতে পারেননি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ। এদিকে ভাটা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ১৫ ভাগই শিশু শ্রমিক। যাদের মধ্যে কারো বয়স ১০ বছর, কারো ১৩ বছর বা ১৪ বছর বয়সী। এই শিশু শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। শুধু কিশোর দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে তা নয়, কিশোরীও আছে এই ইটভাটায়। কথা হয় শিশু শ্রমিক আওয়ালের সাথে। সে বলে প্রতি সপ্তাহে ৩ হাজার সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা পায় কাজ করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন করছ এই কাজ? তখন সে বলে আমার বাবা মা এখানে কাজ করে তাই আমিও এখানে কাজ করি। বাড়িতে কেউ নেই। ১২ ও ১৩ বছর বয়সী আরো ৩ জনের ছেলে শিশু শ্রমিকের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে, পেটের দায়ে আমরা এখানে কাজ করি। সপ্তাতে ১৫০০ টাকা আবার কোন সপ্তাহে ২ হাজার টাকা পাই। মেসার্স মুন্সিরহাট ব্রিকস এ শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কারণে মারাত্মকভাবে আইন লঙ্গন হচ্ছে। এ ব্যাপারে ম্যানেজার মোহাম্মদ জুয়েল বলেন, আমরা যখন উত্তরবঙ্গ থেকে শ্রমিক আনি। তখন তাদের সাথে ছেলে মেয়েরাও চলে আসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর