
আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ২১ হাজারের বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আমিরাতভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে মোট ২১ হাজার ৩৩৯ জন প্রবাসীকে আটক করা হয়। সৌদি আরবজুড়ে চলমান ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবেই এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের অভিযোগের ধরন
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে—
১২,৯৫৫ জন আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে
৪,১৯৮ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে
৪,১৮৬ জন শ্রম আইন ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন।
এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১,৩১৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৬ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক। অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টা করার সময় আরও ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রত্যাবাসন ও আইনি প্রক্রিয়া
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২৫,১৩৩ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১,৬৮৭ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
একই সময়ে আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়, পরিবহন বা সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে সৌদিতে বসবাসরত ২৩ জনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে ৩২,২৮০ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে ২৯,১৫৫ জন পুরুষ এবং ৩,১২৫ জন নারী।
কঠোর আইন ও শাস্তির বিধান
সৌদি আরবের প্রচলিত আইনে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি) জরিমানা করা হতে পারে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে।
প্রবাসীদের জন্য বার্তা
সৌদি আরবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই বিদেশি শ্রমিক। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম প্রায় নিয়মিতই অবৈধ প্রবাসীদের ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ও প্রত্যাবাসনের খবর প্রকাশ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেখানে বৈধ ভিসা ও বসবাসের অনুমতি ছাড়া থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং গ্রেপ্তার হয়ে বড় ধরনের আর্থিক ও আইনি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।