
প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মতলবসহ দেশের নানা নদীনালা ও খালবিলে বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মাছ শিকার বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাতের আঁধারে ও পানির সংকটকে সুযোগ বুঝে ইনভার্টার-ব্যাটারি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক শক দেয়ার ফলে শুধু মাছই নয়, শামুক, ব্যাঙ, সাপসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী ও জলজ উদ্ভিদও ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর ২০২৫) রাতে বৈদ্যুতিক শকে মাছ ধরার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে মৎস্য শিকারীরা সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, নৌকায় রাখা বড় ক্ষমতার ব্যাটারি ও ইনভার্টার থেকে দুটি তার পানিতে প্রবেশ করালে ৫-৭ ফুট সীমার মধ্যে থাকা মাছ enkele সেকেন্ডেই শকপ্রাপ্ত হয়ে ভেসে ওঠে; পরে জালে তোলা হয়। প্রতিদিন এমনভাবে ১৫–২০ কেজি পর্যন্ত ছোট মাছ ধরার অভিযোগে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন। স্থানীয় একজন মৎস্য শিকারীর কথা অনুযায়ী এসব যন্ত্রাংশ অধিকাংশই ভারতের এবং সীমান্তপেরিয়ে মিয়ানমার থেকে আনা হচ্ছে; আবার বাজারেও অর্ডারের মাধ্যমে পাওয়া যায়। অপরদিকে, মৎস্য শিকারের এ পদ্ধতিতে মাছের পোনা, ডিম ও প্রজননচক্র নষ্ট হওয়ায় ভবিষ্যতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হবে—এমন আশঙ্কা করছেন এলাকার জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামীম আহমেদ সাংবাদিককে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবহিত। বৈদ্যুতিক শক দিয়ে সরাসরি মাছ শিকারের কোনো অনুমতি নেই। বিষয়টি নিয়মিত মাইকিং-এর মাধ্যমে জানানো হচ্ছে এবং রাতে অভিযান চালানো হলেও টানা ধরতে সমস্যা হচ্ছে; ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা দ্রুত ও দৃশ্যমান অভিযান আশা করছেন।
অন্য জেলায়ও এ ধরনের ঘটনা এবং তদনুযায়ী জব্দ-শাস্তি ঘটছে — কিছু এলাকায় জেলেরা আটক, মেশিন চালান জব্দ ও জরিমানা-সহ শাস্তির খবর সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—পালস/ইলেকট্রো ফিশিং (electro-fishing) দীর্ঘমেয়াদে আবাসিক মাছ কমিয়ে দেয় এবং জলজ পরিবেশে অনটন সৃষ্টি করে; তাই তা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা প্রয়োজন।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও নৌপুলিশ মিলিয়ে রাতসবেলায় তৎপরতা বাড়াতে হবে এবং আটক মানুষ ও যন্ত্রাংশ দ্রুত জব্দ করতে হবে। সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত সরঞ্জাম প্রবেশ রোধে কাস্টম ও সীমান্তরক্ষী সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি। স্থানীয় জেলেদের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি ও বিকল্প উপার্জনের ব্যবস্থা নেওয়া। পরিবেশগতভাবে ক্ষতি নিরূপণের জন্য জরুরি সার্ভে ও দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
স্থানীয়রা বলেন, সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলের কিছু দেশীয় প্রজাতি ঝুঁকির মুখে পড়বে — তাই গভীর আন্তরিকতা ও তৎপরতা প্রয়োজন।