
অনলাইন ডেস্ক।।
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও নদীতে নামতে প্রস্তুত জেলেরা। শনিবার (২৬ অক্টোবর ২০২৫) মধ্যরাতের পর থেকে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বিক্রি ও মজুদের ওপর আর কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর জীবিকার টানে নদীতে নামতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো জেলে।
চাঁদপুর, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলারে তেল ভরছেন, আবার কেউ জাল শুকিয়ে সাজাচ্ছেন নতুন করে। দীর্ঘ বিরতির পর নদীতে নামার অপেক্ষায় জেলেপল্লিগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ।
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ চলাকালে চাঁদপুরসহ সারাদেশে গত ২২ দিনে মোট **৩ হাজার ৮০০ জন জেলেকে আটক** করা হয়েছে। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে **২ হাজার ৯৫০ জনকে কারাদণ্ড** ও **৮৫০ জনকে অর্থদণ্ড** দেওয়া হয়। এছাড়া অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় **৩ কোটি ২০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল** এবং **১ হাজার ২০০ মণ ইলিশ মাছ**, যা পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয় বা এতিমখানা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হয়।
চাঁদপুর জেলায় একাই জব্দ হয়েছে **১ কোটি মিটার** কারেন্ট জাল এবং আটক হয়েছেন **৫৫০ জন জেলে**। নদীতে নিয়ম ভঙ্গ করে মাছ ধরার সময় নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে এসব জেলেকে আটক করা হয়।
দীর্ঘ বিরতির পর এখন জেলেদের মুখে নতুন আশার আলো। মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার জেলে শাহ আলম বলেন, *“নিষেধাজ্ঞার সময় খুব কষ্টে ছিলাম। এখন নদীতে নামতে পারবো, আবার সংসারে স্বস্তি ফিরবে।”*
আরেক জেলে সোহেল মিয়া বলেন, *“আমরা নিয়ম মেনে মাছ ধরতে চাই। সরকার যদি ডিজেল আর জালের দাম একটু কমায়, তাহলে আমরা টিকে থাকতে পারবো।”*
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, *“নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে সবার সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়। এখন জেলেদের অনুরোধ করা হচ্ছে, অবৈধ জাল ব্যবহার না করতে ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ না ধরতে।”*
সরকারি ত্রাণ হিসেবে পাওয়া চাল শেষ হয়ে গেলেও নতুন মৌসুমে ভালো ইলিশের আশায় মুখর এখন মেঘনা, ডাকাতিয়া ও টেটুলিয়া পাড়ের জেলেপল্লি।
তারা বিশ্বাস করেন, এবার নদী দেবে আশার ঝুলি ভরা ধরা — ইলিশে ভরবে জেলেদের ঘর।
“`