বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কাল রবিবার জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চাঁদপুর জেলা শাখার পরিচিতি সভা চাঁদপুরে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা কমিটির অনুমোদন সভাপতি সাইফুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রত্যয়-এর উদ্যোগে করাইল বস্তিতে মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা সাংবাদিক কেএম মাসুদের মায়ের ইন্তেকাল  হাজিগঞ্জে পরিবর্তনের হাওয়া! ‘স্মার্ট পৌরসভা’ গড়ার ভিশনে আলোচনায় অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া ভোট চাইতে আসিনি নিউরো বিশেষজ্ঞ ডা. বশীর আহমেদ হৃদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব রাব্বানী আর নেই চাঁদপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের যোগদান অ্যাডঃ সলিম উল্যাহ সেলিমকে চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ

চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় ১৯০ অভিযানে ৪১ মামলা, ৩০ মোবাইল কোর্ট ও ৫৭ জন জেলে জেল-হাজতে

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৪৫ বার পঠিত

সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় চলছে ব্যাপক অভিযান। পদ্মা-মেঘনা নদীর চাঁদপুর অংশে ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের বিশেষ অভিযানে আজ (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত ১৯০টি অভিযান, ৩০টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, এবং ৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৫৭ জন জেলেকে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে চাঁদপুর জেলা মৎস্য দপ্তরের পাঠানো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলমান অভিযানে চাঁদপুরের মেঘনা উপকূলীয় সদর, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ ও হাইমচর উপজেলায় টাস্কফোর্স টহল ও অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় ২ লাখ ২৭ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫২ লাখ ৩১ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১৪৪টি মাছ ঘাট, ৬৫৮ বার মাছের আড়ৎ, ১৩টি অবতরণ কেন্দ্র ও ৩৭৯টি স্থানীয় বাজার পরিদর্শন করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ জানান, মা ইলিশ রক্ষায় জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নদীতে টহল দিচ্ছে। অভিযান চলবে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।
জেলা প্রশাসকের কঠোর সতর্কতা
গত ৩ অক্টোবর মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের বাবুর বাজারে গণসচেতনতামূলক সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন,
“ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করব। আইন ভঙ্গকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মা ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখন যদি আমরা মা ইলিশ রক্ষা করি, আগামীতে নদীতে আরও বেশি মাছ পাওয়া যাবে, জেলেরা উপকৃত হবেন।”
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও সরকার এই সময়ে জেলেদের পাশে থাকবে এবং সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
৪৫ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা
অভিযানের পাশাপাশি মা ইলিশ সংরক্ষণে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তায় মানবিক খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমও চলছে। চাঁদপুর জেলায় মোট ৪৫ হাজার ৬১৫ জন নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।
জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৪৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ১,১৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে চাল পৌঁছে দিতে ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পরিবহন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে, টনপ্রতি ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫০ টাকা।
সদর উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন,
“পূজার ছুটির কারণে সামান্য বিলম্ব হলেও সব নিবন্ধিত জেলে চাল পেয়েছেন।”
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ আরও জানান,
“প্রত্যেক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে দ্রুততম সময়ে খাদ্য সহায়তা বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।”
প্রজনন মৌসুমে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা, কারাদণ্ড ও জাল পুড়িয়ে ধ্বংসের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর জেলার প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় ৪৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত জেলে এই সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রয়েছেন
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ আশা করছে, এই ২২ দিনের কঠোর অভিযান ও সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং দেশের জাতীয় মাছ ইলিশ সংরক্ষণে বড় সাফল্য আসবে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর