
‘জ্যামের শহর’ হিসেবে কুখ্যাত চাঁদপুর হঠাৎ করেই দুইদিন হয়ে উঠল পুরোপুরি যানজটমুক্ত ও স্বস্তিদায়ক। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যেখানে দীর্ঘ যানজট শহরবাসীর নিত্যদিনের দুর্ভোগ, সেখানে টানা দুইদিন এমন চিত্রে বিস্মিত হয়েছেন সাধারণ মানুষ।
প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন— হয়তো প্রশাসনের বিশেষ কোনো অভিযান চলছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, একদল কর্মী সবুজ রঙের গেঞ্জি পরে শহরের বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছেন। সামনে-পেছনে স্পষ্টভাবে লেখা “চাঁদপুর পৌর বিএনপি”।
বাসস্ট্যান্ড, ওয়্যারলেস, নতুনবাজার, সরকারি কলেজ মোড়, কালীবাড়ি, আদালতপাড়া, পুরানবাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান মোড়ে ছিল না কোনো যানজট। সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করেছে গাড়ি, আর নির্বিঘ্নে চলাফেরা করেছেন সাধারণ মানুষ।
পথচারী, যাত্রী, ব্যবসায়ী ও চালকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন—এমন দৃশ্য চাঁদপুরে বহুদিন দেখা যায়নি।
মুকবুল হোসেন নামের এক পথচারী বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো পুলিশি অভিযান চলছে। পরে জানলাম, বিএনপির নেতাকর্মীরাই পূজা উপলক্ষে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই কাজের জন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।”
অটোরিকশাচালক মো. হারুনের ভাষায়, “চাঁদপুর শহরে যানজট না থাকাটা সত্যিই বিরল ঘটনা। বিএনপির এমন উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক এটিআই কামরুল জানান, “গত তিনদিন ধরে ডিউটি করছি, কিন্তু শেষ দুইদিনে কোনো যানজট হয়নি। আসলেই রাজনৈতিক দলগুলো যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব।”
চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝির প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়। তিনি বলেন,
“মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। যানজট চাঁদপুরবাসীর সবচেয়ে বড় ভোগান্তি। আমরা চাই এই উদ্যোগকে নিয়মিত কর্মসূচিতে পরিণত করতে। এজন্য কাঠামোবদ্ধ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, এ কাজে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী মাঠে কাজ করছেন এবং দুর্গাপূজা চলাকালীন পুরো সময় তারা সড়কে দায়িত্ব পালন করবেন।
চাঁদপুর পৌর বিএনপির কর্মী আরিফ শাহ বলেন, “আমাদের শহরকে আমরা চাই সুন্দর রাখতে। ড্রাইভাররা যদি শৃঙ্খলা মেনে চলে তবে সহজেই যানজট কমানো সম্ভব। এই দুদিন আমরা সেটাই বাস্তবে প্রমাণ করেছি।”
চাঁদপুরের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ বিএনপির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করেন,
রাজনৈতিক দলগুলো যদি শুধু আন্দোলন-সংগ্রাম নয়, জনদুর্ভোগ কমাতে বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়—তাহলে মানুষের আস্থা বাড়বে এবং রাজনীতির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে।
সাধারণ মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, এ কার্যক্রম যেন কেবল কয়েকদিনের জন্য সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবে চালু থাকে। তবেই “জ্যামের শহর চাঁদপুর” ধীরে ধীরে “স্বস্তির শহর চাঁদপুর”-এ পরিণত হবে