শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মিয়াজীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও কমলো দল থেকে বহিষ্কার হলেও সংসদে যাচ্ছেন বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’ চাঁদপুর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়ক কেন্দ্র (আসক) এর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ বড় স্বপ্ন নিয়ে এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ল বাংলাদেশ পাকিস্তানের ইউ টার্নে ১৯৮৫ কোটি টাকার লোকসান থেকে বাঁচল আইসিসি রাতে ঘুম আসে না? জেনে নিন সহজ সমাধান চাঁদপুর-৩ আসনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা চাঁদপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে  জোরপূর্বক  ভবন নির্মাণ

দল থেকে বহিষ্কার হলেও সংসদে যাচ্ছেন বিএনপির ৭ ‘বিদ্রোহী’

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক চমকপ্রদ রাজনৈতিক সমীকরণের দেখা মিলল। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবং দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা বিএনপির সাতজন ‘বিদ্রোহী’ নেতা শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে পৌঁছেছেন। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও তৃণমূলের সমর্থনে তারা এখন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

জয়ী হলেন যারা
নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ী এই সাত স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন:

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল (কিশোরগঞ্জ-৫)

লুৎফর রহমান খান আজাদ (টাঙ্গাইল-৩)

এম এ হান্নান (চাঁদপুর-৪)

আতিকুল আলম শাওন (কুমিল্লা-৭)

সালমান ওমর রুবেল (ময়মনসিংহ-১)

রেজওয়ানুল হক (দিনাজপুর-৫)

জোটের সমীকরণ ও বিদ্রোহের নেপথ্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোটের শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়া এবং মনোনয়ন পরিবর্তনের কারণেই মূলত বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছিল। বিএনপি এবার শরিকদের ১৬টি আসন ছেড়ে দিলেও তার মধ্যে ১২টিতেই দলের প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থেকে যান। এর ফলে তৃণমূলের ভোট বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু আসনে বিএনপি-সমর্থিত জোট প্রার্থীরা পরাজিত হন।

আসনভিত্তিক চিত্র:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে আসনটি ছাড়লে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা।

কিশোরগঞ্জ-৫: শুরুতে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল মনোনয়ন পেলেও পরে সৈয়দ এহসানুল হুদাকে ধানের শীষ দেওয়া হয়। ক্ষুব্ধ ইকবাল স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করেন।

কুমিল্লা-৭: এলডিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ পান রেদোয়ান আহমেদ। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিজয়ী হন আতিকুল আলম শাওন।

ময়মনসিংহ-১: দলের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন সালমান ওমর রুবেল।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এদের সবাইকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ভোটের মাঠে তারা প্রমাণ করেছেন যে, দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এই সাত নেতার দলে ফেরা বা সংসদে তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিজয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Facebook Comments Box
এই জাতীয় আরও খবর