সমাজের অন্ধকার কোণে যেখানে আজও মাসিক নিয়ে কথা বলাটাই একপ্রকার লজ্জার বিষয়, সেখানে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে এসেছে কিছু তরুণ-তরুণী। "Care for Her, Care for All" — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আট জন তরুণ-তরুণীর উদ্যোগে যাত্রা শুরু হয় উন্নয়নমূলক সংগঠন "প্রত্যয় :: Protyoy"-এর। তাদের বিশ্বাস, একজন নারীর সুস্থতা ও মর্যাদার প্রশ্নে নীরবতা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা ও সহমর্মিতা। সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হলেন— মাহিন আলম আম্মান, এহতেশাম কবীর তৃ, শোহার্তো আলম প্রান্তি, মো. ফাহিম ইসলাম, ইসরাত জাহান মীম, মোঃ মাহফুজুর রহমান, মুমতাহিনা মিজান এবং আফসানা আক্তার মিমি।
সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন তরু শাহরিয়ার স্বর্গ , যিনি একজন উন্নয়নকর্মী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।

তাদের এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে রাজধানীর করাইল বস্তিতে "মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা" (Menstrual Hygiene Management) বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বস্তির ছোট্ট একটি কক্ষে জড়ো হওয়া নারী ও কিশোরীদের চোখে-মুখে প্রথমে দেখা গিয়েছিল কিছুটা সংকোচ, কিন্তু আলোচনা যত এগিয়েছে, তত মিশে গেছে আগ্রহ আর প্রশ্নের ভিড়ে। এই কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিল অ্যান্টি চাইল্ড ম্যারেজ অর্গানাইজেশন (ACMO)।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন নাজিয়া তাসনিম, যিনি অ্যান্টি চাইল্ড ম্যারেজ অর্গানাইজেশন (ACMO)এর নারী ও শিশু কল্যাণ বিভাগের প্রধান এবং একজন উন্নয়নকর্মী। তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ঋদ্ধিকা চাকমা, অ্যান্টি চাইল্ড ম্যারেজ অর্গানাইজেশন (ACMO) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি। এই কার্যক্রমে সহযোগিতায় ছিল অ্যান্টি চাইল্ড ম্যারেজ অর্গানাইজেশন (ACMO)
আজকের কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মাসিক সম্পর্কে মৌলিক ধারণা প্রদান করা হয়। মাসিক কেন হয়, এটি যে একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া এবং কোনো রোগ বা লজ্জার বিষয় নয়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়, যার মধ্যে ছিল স্যানিটারি প্যাডের সঠিক ব্যবহার ও সময়মতো পরিবর্তন, কাপড় ব্যবহার করলে তা পরিষ্কার ও নিরাপদভাবে ব্যবহারের নিয়ম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও হাত ধোয়ার গুরুত্ব এবং ব্যবহৃত প্যাড নিরাপদভাবে অপসারণের পদ্ধতি। পাশাপাশি মাসিকের সময় শরীর ও মনের বিভিন্ন পরিবর্তন, যেমন পেটব্যথা, ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন, উদ্বেগ ও আবেগগত পরিবর্তন সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
অপরিষ্কারভাবে মাসিক ব্যবস্থাপনা করলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণ হতে পারে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হয়। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। সবশেষে মাসিক সম্পর্কিত প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কার ভাঙার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। একটুকরো সচেতনতা, একটুখানি সাহস এভাবেই বদলে যেতে পারে অনেকগুলো জীবনের গল্প।