
ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি।।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় অবস্থিত ফরিদগঞ্জ বালিকা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি গত ৫ মাস ধরে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং এটি এখন মশার প্রজননের নিকৃষ্ট আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ফলে শত শত স্কুলগামী শিক্ষার্থীকে প্রতিদিনই দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিন চিত্র
স্কুল সড়কটির পুরো অংশজুড়ে জমে থাকা পানি এখন কালো হয়ে গেছে। পানিতে মশার লার্ভা দৃশ্যমান। এই সড়কের পাশেই রয়েছে উপজেলা রিসোর্স সেন্টার (ইউআরসি), যেখানে উপজেলার শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ নিতে আসেন। অর্থাৎ শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও প্রতিনিয়ত একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, নোংরা পানির মধ্য দিয়ে স্কুলে যাওয়া তাদের জন্য ভয়ানক কষ্টকর। তারা প্রায়ই দুর্গন্ধ ও মশার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
জলাবদ্ধতার কারণ
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, পূর্বে বর্ষাকালে পানি জমলেও পাইপের মাধ্যমে কয়েক দিনের মধ্যেই পানি নেমে যেত। কিন্তু স্থানীয় এক বাসিন্দা কিরণ নিজের প্রয়োজনে রাস্তার একপাশে বালি ফেলে পাইপটি চাপা দিয়ে ফেলেন। এর ফলে গত ৫ মাস ধরে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
তাছাড়া পার্শ্ববর্তী হোটেলের ময়লা পানি এই সড়কে এসে জমা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পৌরসভাকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আফতাবুল ইসলাম বলেন, “আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে বলেছে।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, “বিষয়টি আমরা শিক্ষা কমিটির সভায় তুলেছি। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।”
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ সুফিয়ান খান জানিয়েছেন, “পৌর প্রশাসকের সাথে আলোচনা করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি
স্থানীয়রা বলছেন, প্রধান শিক্ষক চাইলে কিরণের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করতে পারতেন। প্রচলিত আইনে তাকে জরিমানা করা বা বাধ্য করা সম্ভব ছিল যাতে সে নিজেই পাইপ পুনঃস্থাপন করে রাস্তা জলাবদ্ধতামুক্ত করে। একইভাবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
সম্ভাব্য সমাধান
এলাকাবাসীর মতে, পৌরসভা চাইলে রাস্তা উঁচু করতে পারত, অথবা উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এই ছোট কাজটি সম্পন্ন করা যেত। স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইলে অভিভাবক ও ইউআরসি প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকেও অনুদান সংগ্রহ করে উদ্যোগ নিতে পারত।
মানবিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ডেঙ্গু ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে
এত ছোট একটি সমস্যার সমাধানে কেন মাসের পর মাস কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলো না? স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘ নীরবতা ও পরনির্ভরশীলতা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।
এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও রাস্তা উঁচুকরণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হোক।