মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়‘ মোকা’ নিয়ে শঙ্কায় সাতক্ষীরার উপকূলবাসী

মেঘনার আলো ২৪ ডেস্ক / ৬৭ বার পঠিত
আপডেট : রবিবার, ৭ মে, ২০২৩, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

বিগত সব ঘূর্ণিঝড় থেকে শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কায় ‘মোকা’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাতক্ষীরার উপকূলবাসী। চলতি মে মাসের ১৩ তারিখের পর থেকে ১৫ মে’র মধ্যে যেকোন সময়ে উপকূলে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’। ‘মোকা’ মোকবেলায় প্রস্তুতি চলছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা এবং আম্ফানের ক্ষয়ক্ষতি এখনো কাটিয়ে ওঠতে পারিনি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলবাসী। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’র বার্তা রীতিমত চরম আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে তাঁদের। বিশেষ করে দুর্বল ভেড়িবাঁধ নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে উপকূলের বাসবাসকারি সাধারণ মানুষ।

জানা যায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। সে সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকা। এরপর ২০১৩ সালের ১৬ মে ‘মহাসেন’, ২০১৫ সালের ৩০ জুলাই ‘কোমেন’, ২০১৬ সালের ২১ মে ‘রোয়ানু’, ২০১৭ সালের ৩০ মে ‘মোরা’, ২০১৯ সালের ৩ মে ‘ফণী’, ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর ‘বুলবুল’ আঘাত হানে। সবশেষ ২০২০ সালের ২০ মে বিকেলে সুন্দরবনের পাশ দিয়ে সাতক্ষীরা উপকূলে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। এ সময় ভেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা ও শ্যামনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন। যার ক্ষত শুকায়নি এখনো।

স্থানীয়রা জানান, শ্যামনগর উপকূল জুড়ে বিভিন্ন স্থানে ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ চললেও বেশ কিছু স্থান এখনও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আবার অনেক স্থানে দায়সাড়া ভাবে ভেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। যা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্ট প্লাবন মোকাবেলার সক্ষমতা রাখে না। যদিও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর বেল্টের গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কাশিমাড়ীসহ অন্যান্য ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ সংস্কার করা হয়েছে।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাতাখালি এলাকার বাইজিদ হোসেন বলেন, আমাদের ইউনিয়নের বেশ কিছু জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ ভেড়িবাঁধ সংষ্কার করা হয়েছে। কোথাও কোথাও কাজ চলছে। কিন্তু কাজের মান খুবই নিম্নমানের। ভেড়িবাঁধের যে উচ্চতা করা হয়েছে সামান্য জলোচ্ছ্বাসে তা উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে।

একই ইউনিয়নের ঝাপা গ্রামের অসীম কুমার মণ্ডল বলেন, কিছু দিন আগে ঝাপা হাইস্কুল থেকে খেয়াঘাট অভিমুখে ৩ কিলোমিটার ভেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ করেছে। তবে এসব ভেড়িবাঁধ উচ্চ জোয়ারে টিকবে না। কাজ করা হয়েছে নাম মাত্র।

আরও পড়ুন>> নোয়াখালীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করায় যুবকের কারাদণ্ড

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ভবতোষ মণ্ডল বলেন, বর্তমানে বুড়িগোয়ালিনীর দুর্গাবাটিতে দুই জায়গায় ও দাতিনাখালীসহ মোট তিনটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বলেন, হরিষখালী, পার্শেমারী টেকেরহাট, গাবুরা, চকবারা ও লেবুবুনিয়াসহ ৫টি স্থানে ভেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে আছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশীমাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, ঝাপালী বাজার হতে ঘোলা খেয়াঘাট অভিমুখে ভেড়িবাঁধের ৩টি স্থান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সামান্য জলোচ্ছ্বাসে ওই ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকা নিয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহিনুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সাথে কথা হয়েছে। তাঁদেরকে সর্তক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার আক্তার হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের ও সিপিপি টিম লিডারদের সাথে কথা বলেছি। উপজেলার ১০৩টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ আঘাত হানার আশঙ্কায় জেলার সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সতর্ক ও মোকাবেলা যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর