শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
আমিন কেরানী ফরিদগঞ্জের কাঁশারা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রসার সভাপতি নির্বাচিত বাকিলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী জুলহাস মিয়ার মনোনয়নপত্র দাখিল ফরিদগঞ্জ আন-নূর জামে মসজিদের কার্যক্রম উদ্বোধন রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে খালেদা বিদেশ যেতে পারেন: হানিফ নাঈমকে চাপা দেওয়া গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার সড়ক দূর্ঘটনায় প্রান গেল ৩ কলেজের শিক্ষার্থী কচুয়ায় বিআরটিসি-সিএনজির সংঘর্ষে ৩ কলেজ শিক্ষার্থী নিহত ও আহত- ৩ জন \ এলাকায় শোকের মাতম চাঁদপুরে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৩ কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু দায়িত্ব নিয়েই পদত্যাগ করলেন সুইডেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বহুতল ভবনে আগুন পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে মামলা

গণপরিবহন ধর্মঘট: কী থাকছে রবিবারের বৈঠকে

মেঘনার আলো ২৪ ডেস্ক / ৫৭ বার পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

‘হুট করে’ ডিজেল-কেরোসিনের মূল্য বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করছেন পরিবহন মালিকরা। শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। রাজধানীতে সারাদিন বিআরটিসির বাস বাদে অন্য কোনো গণপরিবহন চলেনি। এই বাসগুলোতেও প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। এদিন ছুটির দিন হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের পরীক্ষাও ছিল। অনেক ক্ষেত্রেই পরীক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকালে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে গণপরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জ্বালানির মূল্য নিয়ে রবিবার সংশ্লিষ্ট স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক হবে। সাধারণ যাত্রীদের প্রশ্ন হচ্ছে, ওই বৈঠকে কী থাকছে?

অবশ্যই পরিবহনমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, ‘ওই বৈঠকে আলোচনা করে জ্বালানি তেলের বাস্তবভিত্তিক মূল্য সমন্বয় করা হবে। এর মাধ্যম জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হবে।’

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, কোনো আলোচনা না করে  জ্বালানির দাম বাড়ানোটা রীতিমতো হঠকারী সিদ্ধান্ত। এভাবে দাম বাড়ার কারণে তারা হতবাক।  লোকসান দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছিল। তাই বাধ্য হয়ে তারা ধর্মঘট পালন করছেন। তবে, ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়ার পর ভাড়া পুনঃনির্ধারণের বৈঠকের সময়সূচি নিয়েও তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, ভাড়া সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কস্টিং কমিটির বৈঠক স্রেফ প্রথম ধাপ। বর্ধিত ভাড়া গেজেট আকারে পাস হতে সময় লাগবে। তেলের দাম বাড়ানোর আগে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা কেন করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

 

এদিকে, যাত্রীরা বলছেন, হঠাৎ করে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা উচিত হয়নি। তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে মালিকরা হুঁশিয়ারি দিতে পারতেন। আলোচনায় বসতে পারতেন। আলোচনায় ফল না এলে ধর্মঘটের পথ তো খোলাই ছিল। একইসঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যাওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি  দুইভাবে দেখছি। এক. এতে যাত্রীদের পরিবহন খরচ অনেকটা বাড়বে। দুই. এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এমন অবস্থায় তেলের দাম বাড়ানোর মানেই পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ানো। অর্থাৎ নিত্যপণ্যের দাম একলাফে আরও বাড়বে।’

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, ‘পরিবহন মালিকরা এবার দেশপ্রেমের পরিচয় দিতে পারেননি। তাদের উচিত ছিল সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা। গাড়ি বন্ধ করে দেওয়া তো কোনো সমাধান নয়। তারা যেন ব্যবসা বাড়াতে পারেন, গাড়ি নিরাপদে চালাতে পারেন, এজন্য দেশব্যাপী নতুন নতুন সড়ক, ফ্লাইওভার হচ্ছে। এমন অবস্থায় যাত্রীদের কথা তাদের ভাবা উচিত ছিল। পরিবহন সংকটের কারণে আজ অনেকে চাকরির পরীক্ষাও দিতে পারেননি। এর দায়ভার কে নেবে?’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘তেলের দাম হুট করে বাড়ানোয় ধর্মঘটও হুট করে হয়েছে। গাড়ি বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি ভুগবেন শ্রমিকরা। কিন্তু মালিকরা তেলের বাড়তি খরচে গাড়ি চালিয়ে পোষাতে পারবেন না বলেই ধর্মঘট করেছেন। করোনার সময়ও পরিবহন শ্রমিকদের খবর সরকার নেয়নি। এবার মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই তেলের দাম বাড়ালো।’

ওসমান আলী আরও বলেন, ‘রবিবার যে বৈঠকের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা  শুক্রবার বা শনিবার করা যেতো। পরিবহন মালিকরা বৃহস্পতিবারই ভাড়া পুনঃনির্ধারণের দরখাস্ত দিয়েছেন। বৈঠক দেরি করে ডাকার ফলে মানুষের ভোগান্তিও বাড়বে। আর এই বৈঠক তো কস্টিং কমিটির বৈঠক। ভাড়া যদি বাড়ে তাহলে সেটার কেবল প্রথম ধাপ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দেরি হবে।’

বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙা ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘একরাতের মধ্যে ১৫ টাকা বাড়িয়ে দিলো ডিজেলের দাম! স্বাধীনতার পর কখনো একসঙ্গে ১৫ টাকা করে তেলের দাম বাড়েনি। আমাদের এখানে দাম বাড়ানোর পরদিনই ভারতে ডিজেলের দাম কমানো হলো। মালিকরা দেখলেন, প্রতি কিলোমিটারে তাদের খরচ বেড়ে গেলো ৫৪ পয়সার আশেপাশে। এ অবস্থায় গাড়ি চালালে ক্ষতি সামলানো যেতো না। তাই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই জেলায় জেলায় ধর্মঘট করছেন।’

রাঙ্গা আরও বলেন, ‘হঠাৎ করেই এমন  দাম বাড়ানোর পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করতে পারে। মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই ডিজেলের দাম এত টাকা বাড়ানো স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। করোনার সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম ছিল। তখন তো দেশে দাম কমানো হয়নি। আর এক টাকা-দেড় টাকা বাড়ালেও একটা কথা ছিল।’ একসঙ্গে ১৫ টাকা দাম বাড়িয়ে দেওয়াকে ভয়াবহ ব্যাপার বলে অভিহিত করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর