বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

করোনার বন্ধে নাগেশ্বরীতে ৫৭৭ শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে

মেঘনার আলো ২৪ ডেস্ক / ৬৩ বার পঠিত
আপডেট : শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

করোনার বন্ধে মাধ্যমিক স্তরের ৫৭৭ জন শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। স্বপ্ন ভেঙ্গে বই, খাতা ও কলম ফেলে দুই হাতে মেহেদী রাঙ্গিয়ে বধু সেজে শ্বশুর বাড়ি গেছে তারা। বিষয়টি চিন্তায় ফেলেছে সচেতন মহলকে।

বাল্যবিয়ের এই ঘটনাগুলো ঘটেছে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

উপজেলার ভিতরবন্দ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ জানান, করোনার থাবায় দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে শ্রেণি পাঠদান শুরু হয়েছে। এরপর দেখা গেছে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না ৭ম শ্রেণির ৩ জন, ৮ম শ্রেণির ২ জন ও নবম শ্রেণির ৪ জন ছাত্রী। তাদের বান্ধবীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই ৯ জন ছাত্রী বিয়ে করে শশুর বাড়িতে থেকে স্বামীর সংসার করছে। এমন এক সময়ে অভিভাবকরা তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, তখন দেশ ও বিশ্ব করোনায় স্তব্ধ। এতে করে তারা আমাদেরকে ফাঁকি দিয়ে তাদের মেয়েদের সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। এ বোঝা তাদের বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। যা উদ্বেগের বিষয় বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।

কচাকাটা বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ফজলুর রহমান জানান, তার বিদ্যালয়ের উপস্থিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে এমন তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে এর সংখ্যা আরোও বেশি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এছাড়া ইতিপূর্বে বিয়ে হয়েছে এমন ১০/১২জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে বলেও তিনি জানান।

পশ্চিম রামখানা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু আক্কাস সিদ্দিক জানান, তার প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত নবম ও দশম শ্রেণির ৭ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে বাল্যবিয়ের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে লুকোচুরি চলছে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। বিদ্যালয়গুলো এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাল্য বিয়ের তথ্য দিতে রাখঢাক চলছে। প্রশাসনের দেয়া তথ্যর চেয়ে প্রকৃত বাল্যবিয়ের সংখ্যা অনেক বেশি বলে ধারণা তাদের।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে উপজেলার ৫৯ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৮ মাদ্রাসার ৫৭৭ জন শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে, এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আমরা আশংকা করছি। স্কুলে স্কুলে গিয়ে আমরা শিক্ষকদের সাথে কথা বলছি, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারে।

এদিকে বাল্যবিয়ে বন্ধে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন সময় প্রচার ও প্রচারনা চালানো হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না তা। বিষয়টি চিন্তায় ফেলেছে সচেতন মহলকে।

এছাড়াও মেয়ে শিশুরা যাতে বাল্যবিয়ে না বসে সংকল্প নিয়ে নিজেদের জীবনমান উন্নয়ন করতে পারে শিক্ষার্থীদের এ সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উপজেলার ৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করছে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর বিল্ডিং বেটার ফিউচার ফর গার্লস (বিবিএফজি) প্রকল্প। উপজেলা সমন্বয়কারী রবিউল ইসলাম জানান, আমরা বাল্য বিয়ে নিরোধ আইন-২০১৭ বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ১ হাজার ইমাম, কাজী, ঘটক ও পুরোহিতকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারপরেও কোভিড পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এতগুলো বাল্যবিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এতে আমরা মর্মাহত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুর আহমেদ মাছুম জানান, আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। অধিকাংশ বাল্যবিয়ে আমাদের অঞ্চলের বাইরে সম্পন্ন হওয়ায় যতাযথ তথ্য প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্য প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

এক ক্লিকে বিভাগের খবর